Posts

ছেঁড়া ফুল নয়, ঝরে যাওয়া ফুলের "মধুবনী"!

Image
।। যখন বিষন্ন হয় মন, শ্বাসরুদ্ধকর শহরে, ছুটে চলে যাই তুলিতে আঁকা গ্রাম গোলাবাড়ির কোনে ।।   এই একঘেয়েমিতে ভরা শহরে যখন একদমই মন টেকে না, তখন মনে হয় যে ছুটে চলে যায় কোনো এক জায়গায় যেখানে শান্তির আভাস পাওয়া যাবে। এই ব্যস্ত যানজটময় শহরে বড্ড দম বন্ধকর পরিবেশের হাত থেকে বাচঁতে মাঝে মাঝে সবুজ শীতলময় গ্রামের স্নিগ্ধ বাতাস অনুভব করতে ইচ্ছে করে। সেরকমই একটি জায়গার কথা আজকে তুলে ধরবো যেখানে গ্রামের প্রত্যেকটি দেওয়াল, প্রত্যেকটি কুঁড়েঘর তুলি দিয়ে আঁকা। আজ বলবো সীতা মায়ের জন্মস্থান " মিথিলার " মধুবনী চিত্রকলা নিয়ে। যে চিত্রকলায় ঢেকে থাকে গ্রামের  দেওয়াল, আঙিনা গুলো। ভারতীয় সংস্কৃতি নানান চিত্রকলা তে আচ্ছন্ন, সেগুলির মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় হলো এই মধুবনী চিত্ৰকলা। বিহারের মিথিলা এবং নেপালের কিছু অঞ্চলের একটি ঐতিহ্যেবাহী পরিচয় হলো এই মধুবনী পেইন্টিং। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে এমন আর্ট ফেস্ট হয়তো খুব কমই দেখা যায় যেখানে হয়তো এই মধুবনী আর্ট চোখে পড়েনা। বিহার থেকে যাত্রা শুরু করলেও এই মধুবনী আর্ট এখন এখন পা দিয়েছে জাপান পর্যন্ত। জাপানের এক জাদুঘরে এই মধুবনী চিত্রকলা প্রদর্শিত হয়েছে।তবে ইতিহাসের পাতায় ...

পটচিত্র : রঙের ছোঁয়ায়, রঙ বাহারি !

Image
ক্লাস  টুয়েলভ এ বাঙালির চিত্রকলা তে পড়া "পটশিল্প" এর কথা মনে আছে তো? সংস্কৃত শব্দ "পট্ট" থেকেই পট কথাটির জন্ম, যার অর্থ হলো "কাপড়"। এই কাপড়ের ওপরই আটা, কাদা, গোবরের প্রলেপ দিয়েই প্রথমে জমিন তৈরি করা হয়। "পট" আমাদের কাছে সেভাবে অজানা নয়। কারণ, আমাদের বাংলা সংস্কৃতির অন্যতম ধারক এবং বাহক হলো এই "পটচিত্র" বা "পটশিল্প" । উড়িষ্যা এবং বাংলার এই গৌরবময় শিল্পকলা নিয়ে আমরা কম-বেশি সকলেই জানি। রাজস্থানের কিছু অঞ্চলেও পটচিত্রের সন্ধান পাওয়া যায় তবে তা বাংলা বা উড়িষ্যার মতন সমৃদ্ধশালী নয়। প্রাচীন বাংলায় যখন কোন দরবারি শিল্পের ধারা গড়ে ওঠেনি তখন পটচিত্রই ছিল বাংলার গৌরবময় ঐতিহ্যের ধারক। কোলকাতা থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পিংলা ব্লকের "নয়া গ্রাম" নিজের শিল্প মাধ্যম এবং ঐতিহ্যবাহী ধারণ ক্ষমতা নিয়ে আজ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে বিশ্বের দরবারে। পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে হয়তো এই একটা গ্রামই অবশিষ্ট রয়েছে যেখানে গেলে আমাদের চোখ ধাঁধিয়ে যাবে। প্রত্যেকটি বাড়ির দেওয়ালে, উঠোনে এই কারুকার্য তারা ফুঁটিয়ে তুলেছে। এম...

''চিত্রের" রহস্য ও তার বিবরণ।

" আমি তো ছবিতে এক বারেই রঙ দিই না ! আগে পেনসিল দিয়ে ঘষে ঘষে একটা রঙ তৈরি করে মানানসই করি, তারপরে তার উপর রঙ চাপাই। তাতে করে হয় কি – রঙটা একটু জোরালো হয়।”- রবি ঠাকুর।  আমরা যদি আমাদের ঐতিহ্যবাহী ভারতবর্ষের চিত্রকলা নিয়ে আলোচনা করতে বসি, তাহলে আমরা হয়তো মুশকিলে পড়বো! ভারতে যে রয়েছে লুকিয়ে থাকা অনেক চিত্রকলার ইতিহাস ! আমাদের এই বৈচিত্রময় দেশে রয়েছে অসংখ্য  লোকশিল্প, কিছু কিছু হয়তো জানা আবার অনেক কিছুই হয়তো অজানা। আমরা ভারতের বৈচিত্র্য, সংস্কৃতি নিয়ে বেশ আলোচনা করি, কিন্তু চিত্রকলা? চিত্রকলা ছাড়া আদেও কি সংস্কৃতি পূরণ হবে? আমাদের ভারতীয় লোকশিল্পে এমন অনেক অজানা দিক আছে, যা হয়তো সেভাবে আলোচিত বিষয় নয়। আমাদের ভারতের শিল্পের ইতিহাস হয়তো এখনো অনেকের কাছেই অজানা। ভারতের চিত্রকলার যে নৈপুণ্যতা এবং তার যে আকর্ষণীয় দিক তা নিয়ে হয়তো সেভাবে কথা বলা হয়না। আর, এই কলাকৌশলের পেছনে যাদের অবাধ পরিশ্রম রয়েছে তাও হয়তো অজ্ঞাত। সঠিক যত্ন ছাড়া এই "চিত্রকলা" হয়তো হারিয়ে যেতে বসেছে আজকের ভারতের ইতিহাসের পাতা থেকে, তাই সময় থাকতে থাকতে সেই বিষয়ে খানিকটা আলোচনা করে নেওয়াই ভালো। ভারতকে সমৃদ্ধ সংস...